মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৫

এসিড নিক্ষেপ

এসিড নিক্ষেপ
যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির উপর এসিড নিক্ষেপ করেন বা করবার চেষ্ট করেন তা হলে তার এধরণের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক বা অন্য কোনভাবে কোন ক্ষতি হোক বা না হোক তিনি অনধিক সাত বৎসর কিন্তু কম পক্ষে তিন বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। যদি কোন ব্যক্তি এসিড নিক্ষেপে সহায়তা করেন এবং সেই সহায়তার ফলে ঐ অপরাধ সংঘটিত হয় বা অপরাধটি সংঘটনের চেষ্টা করা হয় তা হলে ঐ অপরাধ সংঘটনের জন্য বা অপরাধটি সংঘটনের চেষ্টার জন্যও নির্ধারিত দণ্ডে সহায়তাকারী ব্যক্তি দণ্ডনীয় হবে

মুসলিম আইনে সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা ?

মুসলিম আইনে সম্পত্তিতে নারীর
অধিকার
আধুনিক সমাজে এখনো নানা ক্ষেত্রে
বঞ্চিত হচ্ছে নারীরা। আর এসব বঞ্চনার
মধ্যে পরিবারের সম্পত্তির অধিকার
থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা অন্যতম।
সমাজ ব্যবস্থার পরির্বতনে এখনো অনেক
নারী তাদের অধিকার সম্পর্কে
পুরোপুরি সচেতন নয়। গ্রামে এখনো
অনেক নারী উত্তরাধিকার সূত্রে
প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সাধারণত মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবার
সম্পত্তিতে একজন ছেলে সন্তান যে
সম্পদের ভাগ পায়, কন্যা সন্তান তার
অর্ধেক ভাগ পায়। বাবা ছাড়াও অন্য
সম্পর্ক থেকেও নারীরা সম্পত্তির ভাগ
পেয়ে থাকে। এসব বিষয় নিয়েই
আমাদের আজকের আয়োজন।
দেনমোহরের অধিকার
মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন মুসলিম
নারী বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে
দেনমোহর বাবদ একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের
অর্থ পেয়ে থাকে। যা স্বামীকে
অবশ্যই বিয়ের আগে অথবা বিয়ের পরে
পরিশোধ করতে হয়। অন্যথা স্ত্রী তা
যেকোনো সময় আইন অনুযায়ী আদায়
করতে পারবে। কোনো কারণে স্বামী
জীবিত অবস্থায় পরিশোধ করে যেতে
না পারলে তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি
থেকে তা পরিশোধ করতে হয়।
ভরণ পোষণের অধিকার
মুসলিম আইন অনুযায়ী নারীদের
যাবতীয় খরচের দায়-দায়িত্ব পুরুষের
ওপর বর্তায়। পুত্রসন্তান উপার্জনক্ষম হলে
তার ওপর সংসারের যাবতীয়
দায়দায়িত্ব এসে পড়ে। আর সে যখন
স্বামী তখন তাকে স্ত্রীর ভরণপোষণ
দিতে হয়, সে যখন বাবা তখন তাকে
তার ছেলেমেয়েদের ভরণপোষণ দিতে
হয় এবং মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা
করতে হয়। যখন সে ভাই তখন ছোট
ভাইবোনদের ভরণপোষণ এবং
অবিবাহিত বোনদের বিয়ের ব্যবস্থা
করতে হয়। এ ছাড়া আমাদের দেশে মা-
বাবার ভরণপোষণ নিয়ে আলাদা আইনও
রয়েছে। ইসলাম ধর্মে এসব দায়দায়িত্ব
থেকে নারীকে অব্যাহতি দিয়ে শুধু
তা পুরুষের ওপরই অর্পণ করা হয়েছে।
বিপরীতে কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে
এসব দায়িত্ব পালন ঐচ্ছিক ব্যাপার। সে
এসব দায়িত্ব পালন করতে না পারলে
তাকে বাধ্য করা যাবে না।
উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে
একজন পুরুষ উত্তরাধিকারসূত্রে মা-
বাবার সম্পত্তি থেকেই অংশ পায়।
একজন নারী সন্তান হিসেবে মা-
বাবার কাছ থেকে, স্বামী মারা
গেলে স্ত্রী হিসেবে স্বামীর কাছ
থেকে, মা হিসেবে সন্তানের কাছ
থেকে সম্পত্তির অংশ পায়। সব অংশ
যোগ করলে এবং উল্লিখিত সব দিক
বিবেচনা করলে নারীর অংশের
সম্পত্তি, মা-বাবার কাছ থেকে
পাওয়া পুরুষের অংশের সম্পত্তির চেয়ে
বেশিই হয়।
"মুসলিম আইনে সম্পত্তিতে নারীর
অধিকার আধুনিক সমাজে এখনো নানা
ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে নারীরা। আর
এসব বঞ্চনার মধ্যে পরিবারের সম্পত্তির
অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা
অন্যতম। সমাজ ব্যবস্থার পরির্বতনে এখনো
অনেক নারী তাদের অধিকার সম্পর্কে
পুরোপুরি সচেতন নয়। গ্রামে এখনো
অনেক নারী উত্তরাধিকার সূত্রে
প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সাধারণত মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবার
সম্পত্তিতে একজন ছেলে সন্তান যে
সম্পদের ভাগ পায়, কন্যা সন্তান তার
অর্ধেক ভাগ পায়। বাবা ছাড়াও অন্য
সম্পর্ক থেকেও নারীরা সম্পত্তির ভাগ
পেয়ে থাকে। এসব বিষয় নিয়েই
আমাদের আজকের আয়োজন।
দেনমোহরের অধিকার মুসলিম আইন
অনুযায়ী একজন মুসলিম নারী বিয়ের পর
স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর বাবদ
একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পেয়ে
থাকে। যা স্বামীকে অবশ্যই বিয়ের
আগে অথবা বিয়ের পরে পরিশোধ
করতে হয়। অন্যথা স্ত্রী তা যেকোনো
সময় আইন অনুযায়ী আদায় করতে পারবে।
কোনো কারণে স্বামী জীবিত
অবস্থায় পরিশোধ করে যেতে না
পারলে তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি
থেকে তা পরিশোধ করতে হয়। ভরণ
পোষণের অধিকার মুসলিম আইন অনুযায়ী
নারীদের যাবতীয় খরচের দায়-
দায়িত্ব পুরুষের ওপর বর্তায়। পুত্রসন্তান
উপার্জনক্ষম হলে তার ওপর সংসারের
যাবতীয় দায়দায়িত্ব এসে পড়ে। আর
সে যখন স্বামী তখন তাকে স্ত্রীর
ভরণপোষণ দিতে হয়, সে যখন বাবা তখন
তাকে তার ছেলেমেয়েদের
ভরণপোষণ দিতে হয় এবং মেয়েদের
বিয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। যখন সে ভাই
তখন ছোট ভাইবোনদের ভরণপোষণ এবং
অবিবাহিত বোনদের বিয়ের ব্যবস্থা
করতে হয়। এ ছাড়া আমাদের দেশে মা-
বাবার ভরণপোষণ নিয়ে আলাদা আইনও
রয়েছে। ইসলাম ধর্মে এসব দায়দায়িত্ব
থেকে নারীকে অব্যাহতি দিয়ে শুধু
তা পুরুষের ওপরই অর্পণ করা হয়েছে।
বিপরীতে কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে
এসব দায়িত্ব পালন ঐচ্ছিক ব্যাপার। সে
এসব দায়িত্ব পালন করতে না পারলে
তাকে বাধ্য করা যাবে না।
উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে একজন পুরুষ
উত্তরাধিকারসূত্রে মা-বাবার
সম্পত্তি থেকেই অংশ পায়। একজন নারী
সন্তান হিসেবে মা-বাবার কাছ
থেকে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী
হিসেবে স্বামীর কাছ থেকে, মা
হিসেবে সন্তানের কাছ থেকে
সম্পত্তির অংশ পায়। সব অংশ যোগ করলে
এবং উল্লিখিত সব দিক বিবেচনা
করলে নারীর অংশের সম্পত্তি, মা-
বাবার কাছ থেকে পাওয়া পুরুষের
অংশের সম্পত্তির চেয়ে বেশিই হয়।"

ভাড়াটিয়াদের জন্য আইন

ভাড়াটিয়াদের যে আইন জানা
দরকার
প্রায় শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ
ভাড়া বাসায় থাকে। কিন্তু
বেশিরভাগ ভাড়াটিয়াই বাড়ি
ভাড়া সংক্রান্ত আইন জানে না বলে
তারা নিজেদের অধিকার থেকে
বঞ্চিত ও বাড়িওয়ালা কর্তৃক প্রতারিত
হয়ে থাকেন। অন্যদিকে ঝামেলা
এড়াতে অনেক ক্ষেত্রেই
বাড়িওয়ালারা চুক্তি করেন না
ভাড়াটিয়ার সাথে। ভাড়াটিয়ারা
নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায়
জেনে নিন বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ
আইন ১৯৯১-এর কিছু দরকারি অংশ–
অগ্রিম ভাড়া
বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১-এর ১০
ও ২৩ ধারা মোতাবেক বাড়ি ভাড়া
নিয়ন্ত্রকের লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য
কোনোভাবেই বাড়ির মালিক তার
ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ
এক মাসের বাড়ি ভাড়ার অধিক
কোনো প্রকার ভাড়া, জামানত,
প্রিমিয়াম বা সেলামি গ্রহণ করতে
পারবেন না। গ্রহণ করলে দণ্ডবিধি ২৩
ধারা মোতাবেক তিনি দণ্ডিত হবেন।
ভাড়ার রসিদ
বাড়িওয়ালার কাছ থেকে আপনার
পরিশোধকৃত বাড়ি ভাড়ার রসিদটি
বুঝে নিন। সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক
বা তার প্রতিনিধি আইন অনুযায়ী এ
রশিদ দিতে বাধ্য।
ভাড়া বাড়ানো
বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৬
ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ‘মানসম্মত’
বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ হওয়ার তারিখ
হতে দুই বছর পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। দুই
বছর পর ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে। এই
আইনের ৮ ধারা এবং ৯ ধারায় বর্ণিত
আছে, মানসম্মত ভাড়া অপেক্ষা প্রত্যক্ষ
বা পরোক্ষভাবে অধিক বাড়ি ভাড়া
আদায় করলে সে ক্ষেত্রে প্রথমবারের
অপরাধের জন্য মানসম্মত ভাড়ার
অতিরিক্ত যে অর্থ আদায় করা হয়েছে
তার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে বাড়ি মালিক
দণ্ডিত হবেন এবং পরবর্তী প্রত্যেক
অপরাধের জন্য এক মাসের অতিরিক্ত
যে ভাড়া গ্রহণ করা হয়েছে তার
তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে বাড়ির মালিক
দণ্ডিত হবেন।
মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ
মানসম্মত ভাড়া সম্পর্কে আইনের ১৫ (১)
ধারায় বলা হয়েছে, ভাড়ার বার্ষিক
পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজার
মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে
না। বাড়ির বাজার মূল্য নির্ধারণ করার
পদ্ধতিও বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ
বিধিমালা, ১৯৬৪ তে স্পষ্ট করা আছে।
এটাকে সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য করতে
ঢাকা সিটি করপোরেশান ঢাকা
মহানগরীকে দশটি রাজস্ব অঞ্চলে ভাগ
করে ক্যাটেগরিভিত্তিক সম্ভাব্য
বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে।
উপযোগী বাসস্থান
বাড়ি মালিক তার বাড়িটি
বসবাসের উপযোগী করে রাখতে আইনত
বাধ্য। বাড়ির মালিক ইচ্ছা করলেই
ভাড়াটিয়াকে বসবাসের অনুপযোগী
বা অযোগ্য অবস্থায় রাখতে পারেন
না। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বসবাসের
উপযোগী করে বাড়িটি প্রস্তুত রাখতে
বাড়ির মালিকের উপর আইনের ২১
ধারায় বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে।
অর্থাৎ ভাড়াটিয়াকে পানি সরবরাহ,
বিদ্যুৎ সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালী নিষ্কাশন
ইত্যাদি সুবিধা প্রদান করতে হবে।
এমনকি প্রয়োজনবোধে লিফটের
সুবিধাও দিতে হবে। কিন্তু উক্তরূপ
সুবিধা প্রদানে বাড়ি মালিক অনীহা
প্রকাশ করলে কিংবা বাড়িটি
মেরামতের প্রয়োজন হলেও
ভাড়াটিয়া নিয়ন্ত্রকের কাছে
দরখাস্ত করতে পারবেন।
ভাড়া বাসা থেকে উচ্ছেদ
বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৮নং
ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, ১৮৮২ সনের
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বা ১৮৭২ সালের
চুক্তি আইনের বিধানে যাই থাকুক না
কেন, ভাড়াটিয়া যদি নিয়মিতভাবে
ভাড়া পরিশোধ করতে থাকেন এবং
বাড়ি ভাড়ার শর্তসমূহ মেনে চলেন
তাহলে যতদিন ভাড়াটিয়া এভাবে
করতে থাকবেন ততদিন পর্যন্ত উক্ত
ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে না।
এমনকি ১৮(২) ধারা মতে বাড়ির
মালিক পরিবর্তিত হলেও ভাড়াটিয়া
যদি আইনসম্মত ভাড়া প্রদানে রাজি
থাকেন তবে তাকে বাড়ি থেকে
উচ্ছেদ করা যাবে না।
ভাড়া বাবদ ভাড়াটিয়ার আসবাবপত্র
ক্রয়
আইনের ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে,
কোনো বাড়ির মালিক তার বাড়ি
ভাড়া বাবদ ভাড়াটিয়ার আসবাবপত্র
ক্রয় বা আটক করতে পারবে না। তদুপরি
ভাড়া নবায়ন কিংবা মেয়াদ বৃদ্ধির
শর্ত যদি বাড়ি ভাড়া চুক্তিতে
থেকেও থাকে তা সত্ত্বেও
ভাড়াটিয়া বাড়ি ভাড়া নবায়ন না
করে, তাহলেও বাড়িওয়ালা
ভাড়াটিয়ার আসবাবপত্র আটক বা ক্রয়
করতে পারবে না।

নোটারি কী ও কেন ? যদি নোটারী পাবলিক করার জন্য অন্য লোক কে ধরা হয় ,তবে সেটা আসল বা নকল বোঝব কি ভাবে । এবং সেটার নকল কপি তুলব কিভাবে এবং নোটারী কে হতে পারেন ?

প্রশ্নঃ নোটারি কী ও কেন ? যদি নোটারী পাবলিক করার জন্য অন্য লোক কে ধরা হয় ,তবে সেটা আসল বা নকল বোঝব কি ভাবে । এবং সেটার নকল কপি তুলব কিভাবে এবং নোটারী কে হতে পারেন ?
উওরঃ
নোটারি কী ও কেন : বিভিন্ন দলিল বা ডকুমেন্ট সরকারিভাবে সত্যায়িত করাকেই নোটারি বা নোটারি পাবলিক বলা হয়। নোটারি পাবলিককে সংক্ষেপে
নোটারি বলা হয়ে থাকে। নোটারি শব্দের মূল নামপদ ‘note’ এবং ‘ary’ অনুসর্গ নিয়ে গঠিত। শব্দটি এসেছে লাতিন ভাষার nota+arius থেকে, এর অর্থ শর্টহ্যান্ড লেখক, কেরানি ইত্যাদি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নোটারির প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশের আইন অঙ্গনেও নোটারি পাবলিক এক অতি পরিচিত নাম। কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা ডকুমেন্টকে সত্যায়িত করতে গেলেই নোটারি পাবলিকের প্রয়োজন পড়ে। আমাদের দেশে সাধারণত নোটারি পাবলিকের কাজ অনুমোদিত আইনজীবীরাই করে থাকেন। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয় নোটারিস অর্ডিন্যান্স এবং নোটারিস রুলস-১৯৬৪ দ্বারা। নোটারি কেন করা হয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে হলে সাধারণত নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে হয়। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সত্যায়িত করা বাধ্যতামূলক। জমিজমা সংক্রান্ত দলিল-দস্তাবেজ, হলফনামা,
বিবাহবিচ্ছেদ, গাড়ি বেচাকেনা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, চারিত্রিক সনদপত্র, জন্ম-মৃত্যুর সনদপত্র এবং বিদেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দিয়ে সত্যায়িত করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া পেমেন্ট অথবা ডিমান্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে,
বটম্রি এবং রেসপনডেনটিয়া বন্ড (bottomry and respondantia bonds ), চার্টার পার্টি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলপত্র তৈরিতে নোটারির ব্যবহার রয়েছে। কীভাবে করতে হয় নোটারি পাবলিক করতে গেলে আইনজীবী আপনার মূল কাগজপত্র যাচাই করে দেখবেন। এরপর তিনি নিশ্চিত হলে তা সত্যায়িত করবেন। মূল কাগজপত্র বলতে বোঝানো হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জন্ম ও মৃত্যুর সনদ,
চারিত্রিক সনদ ইত্যাদি। আর আপনি যদি বিয়ে, তালাক কিংবা হলফনামা তৈরি করতে চান তাহলে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আপনার নোটারি করতে হবে। নোটারি বিধিমালা (৬০ক) অনুযায়ী, একজন নোটারিয়ান বা যিনি নোটারি করে দেন তাঁর নির্দিষ্ট কার্যালয় থাকতে হবে। আর
নোটারি করার সাইনবোর্ড কার্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও ঝোলানো যাবে না। নোটারি করতে খরচ নোটারি পাবলিক করতে কত খরচ হয়? অনেকে মনে করেন, নোটারি পাবলিকের জন্য হাজার খানেক টাকা লাগে। এটি ভুল। এমন ভুল ধারণা ছড়ানোর অবশ্য কারণও রয়েছে। এক
শ্রেণীর দালাল নোটারি পাবলিকের ব্যবসা খুলে সাধারণের কাছ থেকে হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু এ কাজের জন্য সরকারের নির্ধারিত ফি
রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি সত্যায়নের কাজে ১০ টাকা, আর যেকোনো স্ট্যাম্পে হলফনামা, চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে ২০-২৫ টাকা খরচ হয়। অথচ অনেক নোটারি পাবলিক প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকেন। প্রতারণা থেকে সাবধান নিয়মানুযায়ী কাগজপত্র নোটারি করার সময় আপনার নিজের আইনজীবীর সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। অনেক সময় প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে নোটারির কাজ সম্পাদন ও ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে নোটারি করা হয়। নোটারির কাজ হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনেক অবৈধ নোটারি পাবলিক
নিজেরাই সিলমোহর বানিয়ে প্রতারিত করে থাকেন। কাজেই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া মারা গেছেন এমন নোটারি পাবলিকের সিলমোহর ব্যবহার করেও অনেকে প্রতারিত করতে পারেন। বয়সের মিথ্যা তথ্য দেওয়া সনদ, বিবাহবিচ্ছেদ ও মামলার কাজে মিথ্যা হলফনামা, পেছনের তারিখে দলিল তৈরি, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত বানিয়ে আমমোক্তারনামা বানানো, মিথ্যা চুক্তিপত্র, ভুয়া আপসনামাসহ বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা সনদ এবং দলিল সম্পাদনার কাজ করছেন এক শ্রেণীর অবৈধ নোটারি পাবলিক। ভুয়া নোটারিরা অনেক ক্ষেত্রে সাদা কাগজে নোটারির কাজ সম্পন্ন করে অপরাধী চক্রকে বিভিন্নভাবে অপরাধ করতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতএব নোটারি করার আগে নোটারি পাবলিক সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন। কারা নোটারি করতে পারবেন নোটারিস অর্ডিন্যান্স এবং নোটারিস রুলস-১৯৬৪ দ্বারা
বাংলাদেশে নোটারি পাবলিকের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত কোনো ব্যক্তি, যিনি কমপক্ষে সাত বছর আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন অথবা বিচার বিভাগের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে পাঁচ বছর কর্মরত ছিলেন অথবা সরকারের আইনি খসড়া এবং সরকারের আইন প্রণয়নকাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য।
যদি নোটারী পাবলিক করার জন্য অন্য লোক কে ধরা হয় ,তবে সেটা আসল বা নকল বোঝব কি ভাবে ।
এবং সেটার নকল কপি কিভাবে তুলব ?
উওরঃ নোটারির সব document private এবং primary documents যেটা affidavits verified নোটারি seal এবং নোটারি lawyer er verification ছাড়া এটি meanless । তাই verification অবশ্যই যাবে verified ও যে ব্যক্তি ইয়া করেছে তাকে যাছাই বাছাই করলে বোঝা যাবে । তবে প্রুফ proof এর বেলায় ব্যবহার বিভিন্ন হতে পারে ।

যিনি নোটারী হতে পারেনঃ (বাংলাদেশ নোটারী অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে আদালতে কমপক্ষে ৭ বছর ধরে আইনচর্চা রত যে কোন আইনজীবী বিচার বিভাগে কমপক্ষে ৫ বছর ব্যাপী কর্মরত কোন সদস্য আইন বিভাগ বা আইন প্রণয়নে কর্মরত কোন সরকারী চাকুরে নোটারী পাবলিকগণ সরকারী পারিতোষিক প্রাপ্ত হন এবং রাষ্ট্রীয় আদেশ মেনে চলেন। নোটারী নিজ ক্ষমতা বলে সত্যায়িত কাগজে নোটারীকৃত সীল বা ষ্ট্যাম্প যুক্ত করে
থাকেন।নোটারি পাবলিক কোন বিনিময়ে দাবিকৃত অর্থের প্রতিবাদ জানানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্রের অন্যান্য বিষয় ও আইনি দায়িত্ব পালনের জন্য চুক্তিপত্র, কবুলিয়তনামা ইত্যাদির খসড়া প্রণয়ন অথবা সনদ প্রদান করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন সরকারি কর্মকর্তা অথবা সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি। দেশের নিজস্ব আইন অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ অথবা অন্য কোন নিয়োগ-কর্তৃপক্ষ নোটারি পাবলিক নিযুক্তি প্রদান করেন।

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০১৫

তালাক কি ? কি কি উপায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে ? স্বামী কি যখন খুশি তখন তালাক দিতে পারে ? এই ৯০ দিন অতিক্রান্ত হবার আগে কি তালাক প্রত্যাহার করা যাবে ? বিচ্ছেদ প্রাপ্ত স্বামী কি আবার আগের স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারে? স্ত্রী কীভাবে স্বামীকে তালাক দিতে পারে? তালাক-ই-তৌফিজ , খুলা , মোবারাত কি ? স্ত্রী কর্তৃক আদালতে আবেদন মাধ্যমে তালাক ? তালাক কখন কার্যকরী হয় না?


                                                 তালাক কি ?

তালাক 
আরবি-তে 'তালাক' শব্দের অর্থ হল ত্যাগ করা , ছিন্ন রা , ছিন্ন করা। বিবাহ-চুক্তির মাধ্যমে স্থাপিত সম্পর্ক আইনসিদ্ধ উপায়ে ভেঙ্গে দেওয়াকে মুসলিম আইনে 'তালাক' বা বিবাহবিচ্ছেদ বলে। মুসলিম আইনে বিবাহবিচ্ছেদ নর-নারীর একটি বৈধ ও স্বীকৃত অধিকার। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক যদি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে, একসঙ্গে থাকা তাঁদের একজন বা দুজনের পক্ষেই সম্ভব হয় না, সেক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট উপায়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানো যেতে পারে।

০ কি কি উপায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে?

(ক) স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক;
(খ) স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক, যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাক-ই-তৌফিজের ক্ষমতা দান করে থাকেন;
(গ) খুলার মাধ্যমে;
(ঘ) মুবারাতের মাধ্যমে;
(ঙ) আদালতের মাধ্যমে;


০ স্বামী কি যখন খুশি তখন তালাক দিতে পারে?

মুখে পরপর তিনবার 'তালাক' উচ্চারণ করলে অথবা একসাথে 'বায়েন তালাক' কথাটি বললেই তালাক কার্যকরী হয় না। যদিও এই ভুল ধারণাটা এখনও অনেকের মধ্যে আছে এবং আমাদের দেশে স্বামীরা অহরহই মুখে মুখে তালাক দিয়ে থাকেন।
 ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ (১) ধারা অনুযায়ী, স্বামী তালাক দেবার পরপরই তালাক দেবার সংবাদটি একটি নোটিশের মাধ্যমে চেয়ারম্যানকে (যে চেয়ারম্যানের এলাকায় স্ত্রী বাস করছেন) জানাতে হবে।সেই নোটিশের একটি কপি স্ত্রীকে পাঠাতে স্বামী বাধ্য। স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ না পাঠান, তবে ঐ একই আইনের ৭ (২) ধারা অনুযায়ে স্বামী এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা দশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা অথবা দুটি দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন। নোটিশ পাবার ত্রিশ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে উভয়পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং তাঁদের মধ্যে সমঝোতা আনার প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেবেন।

কিন্তু সালিশীতে যদি কাজ না হয় এবং নোটিশ দেবার ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী যদি স্ত্রীকে দেওয়া নোটিশ প্রত্যাহার না করেন, তবে ৯০ দিন পরে তালাক কার্যকরী হবে। ৯০ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত দম্পতিকে আইনসিদ্ধ স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই ধরা হবে এবং স্ত্রী ভরণপোষণও পাবে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ -এর ৭(১) নং ধারা অনুযায়ী - চেয়ারম্যান ও স্ত্রীকে নোটিশ না পাঠালে স্বামী শাস্তি পাবেন ঠিকই, কিন্তু তালাক বাতিল হবে না। তালাক কার্যকরী হবে। (সম্প্রতি একটি মামলায় (মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বনাম মোছা:হেলেনা বেগম ও অন্যান্য। সিভিল রিভিশন নং ৬৯৮, ১৯৯২) এ মর্মেই রায় দেওয়া হয়েছে।

০ এই ৯০ দিন অতিক্রান্ত হবার আগে কি তালাক প্রত্যাহার করা যাবে ?

হ্যাঁ, এই ৯০ দিন অতিক্রান্ত হবার আগে অবশ্যই তালাক প্রত্যাহার করা যাবে। এই সময়টা এইজন্যই রাখা হয়েছে যাতে করে স্বামী-স্ত্রী উভয়পক্ষই ঠাণ্ডা মাথায় সব কিছু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন - পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে পারেন।

০ বিচ্ছেদ প্রাপ্ত স্বামী কি আবার আগের স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারে?

১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন ৭ (৬) ধারা অনুযায়ী তালাকের মাধ্যমে কোন বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে, তালাক হওয়া দম্পতি আবার বিয়ে করতে চাইলে নতুন করে বিয়ে করতে হবে। তবে তার জন্য মধ্যবর্তী বা হিল্লা বিয়ের কোনো প্রয়োজন নেই।
(হিল্লা বিয়ে হল তালাক দেওয়া নারীকে প্রাক্তন স্বামী বিয়ে করতে চাইলে সেই নারীকে অন্তর্বর্তী কালে অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করার পুরনো প্রথা। সেই প্রথা অনুযায়ী হিল্লা বিয়ের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়ে যাবার পর তাঁকে প্রাক্তন স্বামী আবার নিকাহ্ করতে পারবেন । ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে 'হিল্লা' নিকাহ্ বলে যে বিয়ে প্রচলিত ছিল, সেটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিল্লা বিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনী কাজ। কেউ এ ধরণের বিয়ে ঘটানোর উদ্যোগ নিলে সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় খবর দেওয়া উচিত।)


স্ত্রী কীভাবে স্বামীকে তালাক দিতে পারে?

(১) তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে
(২) খুলার মাধ্যমে
(৩) মোবারাতের মাধ্যমে
(৪) আদালতে আবেদনের মাধ্যমে


(১) তালাক-ই-তৌফিজ কি?

তালাক-ই-তৌফিজ স্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতা নয়। স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেয়, তবে স্ত্রীও স্বামীর মতো তালাক দিতে পারে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীকেও স্বামীর মতো তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাতে এবং এক কপি স্বামীর কাছে পাঠাতে হবে। স্ত্রীর এই তালাক দেওয়ার ক্ষমতাকে তালাক-ই-তৌফিজ বলে।
নিকাহ্নামার ১৮ নং ঘরে "স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করছে কি না? করে থাকলে কী শর্তে?" এই প্রশ্নটি থাকে। স্বামীর একতরফা ক্ষমতার কারণে স্ত্রীকে বহু নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর সাথে থাকতে হয়। ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইনে বর্ণিত শর্তগুলো (যেমন, নির্যাতন, নিরুদ্দেশ) না থাকলে এবং হুলার মাধ্যমে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ না পেলে একটি মেয়ের পক্ষে বিয়ে থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। সেক্ষেত্রে স্ত্রী অপেক্ষাকৃত কম জটিলতায় তালাক-ই-তৌফিজের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারে। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিকাহ্নামার ১৮ নং ঘরটি এজন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পূরণ করা উচিত। অনেক সময় কাজীরা এ প্রশ্ন করেন না এবং ঘরটি শূন্য থাকে। কাজীদের অবশ্যই দুপক্ষকে দিয়ে ঘরটি সম্পর্কে অবগত করানো উচিত।

(২) খুলা বিচ্ছেদ কাকে বলে?

যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বনিবনা ভাল না থাকে, তবে স্ত্রী অর্থ বা সম্পত্তির বিনিময়ে স্বামীকে বিচ্ছেদ ঘটাতে রাজী করাতে পারে। যেহেতু অধিকাংশ নারীর সম্পত্তি থাকে না অথবা সম্পত্তি থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকে না, সেক্ষেত্রে স্ত্রী মোহরানা বা মোহরানার অংশ দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে রাজী করানোর চেষ্টা করতে পারেন।

(৩) মোবারাত কি ?
 
যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী, উভয়ই একে অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন এবং তাঁরা চুক্তির মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটান, তখন বলা মোবারাত। খুলার মত মোবারাতও এক ধরণের চুক্তি-ভিত্তিক বিবাহবিচ্ছেদ।

(৪) স্ত্রী কর্তৃক আদালতে আবেদন মাধ্যমে তালাক ?

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের অধীনে স্ত্রী নিম্নোক্ত ৯টি কারণের যে কোনো এক বা একাধিকের ভিত্তিতে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রার্থনা করতে পারেন:
(১) স্বামী ৪ বছরের অধিক সময় নিরুদ্দেশ থাকলে;
(২) দুই বছর যাবত্ স্ত্রীর খোরপোষ দিতে স্বামী ব্যর্থ হলে;
(৩) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙঘন করে অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
(৪) স্বামী সাত বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে;
(৫) কোনো যুক্তি-সঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে স্বামী তাঁর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
(৬) স্বামী বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করার সময়পর্যন্ত বজায় থাকলে;
(৭) স্বামী দুই বছর ধরে পাগল থাকলে অথবা মারাত্বক যৌনব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
(৮) নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে থাকলে অথবা সাবালকত্ব লাভের পর অর্থাত্ ১৮ বছর পূর্ণ হবার পর স্ত্রীর বিয়ে অস্বীকার করলে (কিন্তু এক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে থাকলে এরকম মামলা দায়ের করা যাবে না)
(৯) নিম্নলিখিত যে কোনো অর্থে স্ত্রীর সাথে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করলে:
(ক) যদি স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা;
(খ) কুখ্যাত মহিলাদের (women of ill reputation) সঙ্গে স্বামীর মেলামেশা করা কিংবা নৈতিকতা-বর্জিত জীবন যাপন করা।
(গ) নৈতিকতা-বর্জিত জীবন যাপনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করা, কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির বৈধ অধিকার প্রয়োগে দেওয়া;
(ঙ) স্ত্রীকে তার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া;
(চ ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে পবিত্র কোরানের নির্দেশে তাদের সাথে সমান ব্যবহার না করা;

তবে উপরোক্ত কারণগুলির ভিত্তিতে মামলা দায়ের করতে হলে স্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকতে হবে।

০ তালাক কখন কার্যকরী হয় না?

গর্ভবতী অবস্থায় তালাক দিলে সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকরী হবে না। সন্তানের বৈধতা বা পিতৃত্ব নির্ধারণের জন্যই এ আইন তৈরি করা হয়েছে।
বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তান কার কাছে থাকবে?
বিবাহবিচ্ছেদের পর ছেলে সন্তান ৭ বছর পর্যন্ত ও মেয়ে সন্তান বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে। বাবা ভরণপোষণ দেবে। যদি বাবা দায়িত্ব পালন না করে, সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান সালিশী পরিষদের মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে পারেন।

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০১৫

বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর জীবনী

বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর জীবনী
আলবার্ট আইনস্টাইন
(আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৭৯-১৯৫৫)
জার্মানির একটি ছোট শহর উলমে এক সম্ভ্রান্ত ইহুদি পরিবারে আইনস্টাইনের জন্ম (১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ)।
পিতা ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। মাঝে মাঝেই ছেলেকে নানা খেলনা এনে দিতেন। শিশু আইনস্টাইনের বিচিত্র চরিত্রকে সেই দিন উপলব্ধি করা সম্ভব হয়নি তার অভিভাবক, তার শিক্ষকদের। স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাঝে মাঝেই অভিযোগ আসত পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ছেলে, অমনোযোগী, আনমনা। ক্লাসের কেউ তার সঙ্গী ছিল না। সকলের শেষে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বসতেন।
শুধু একমাত্র সঙ্গী তার মা। তার কাছে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের নানা সুর শোনেন। আর বেহালায় সেই সুর তুলে নেন। এই বেহালা ছিল আইনস্টাইনের আজীবন কালের সাথী। বাবাকে বড় একটা কাছে পেতেন না আইনস্টাইন। নিজের কারখানা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। আনন্দেই কাটছিল তার জীবন।
সেই আনন্দে ভরা দিনগুলোর মাঝে হঠাৎ কালো ঘনিয়ে এল। সেই শৈশবেই আইনস্টাইন প্রথম অনুভব করলেন জীবনের তিক্ত স্বাদ। তারা ছিলেন ইহুদি। কিন্তু স্কুলে ক্যাথলিক ধর্মের নিয়মকানুন মেনে চলতে হতো।
স্কুলের সমস্ত পরিবেশটাই বিষাদ হয়ে যায় তার কাছে। দর্শনের বই তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করত। পনেরো বছর বয়সের মধ্যে তিনি কান্ট, স্পিনোজা, ইউক্লিড, নিউটনের রচনা পড়ে শেষ করে ফেললেন। বিজ্ঞান, দর্শনের সাথে পড়তেন গ্যেটে, শিলার, শেক্সপিয়ার। অবসর সময়ে বেহালায় বিটোফোন, মোতসার্টের সুর তুলতেন। এরাই ছিল তার সঙ্গী বন্ধু, তাঁর জগৎ।
এই সময় বাবার ব্যবসায়ে মন্দা দেখা দিল। তিনি স্থির করলেন মিউনিখ ছেড়ে মিলানে চলে যাবেন। তাতে যদি ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। সকলে মিউনিখ ত্যাগ করল, শুধু সেখানে একা রয়ে গেলেন আইনস্টাইন।
সুইজারল্যান্ডের একটি পলিটেকনিক স্কুলে ভর্তি হলেন। প্রথমবার তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেন না। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় পরীক্ষায় পাস করলেন। বাড়ির আর্থিক অবস্থা ক্রমশই খারাপ হয়ে আসছে। আইনস্টাইন অনুভব করলেন সংসারের দায়-দায়িত্ব তাকে গ্রহণ করতেই হবে। শিক্ষকতার বৃত্তি গ্রহণ করার জন্য তিনি পদার্থবিদ্যা ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা আরম্ভ করলেন। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে শিক্ষকতার জন্য বিভিন্ন স্কুলে দরখাস্ত করতে আরম্ভ করলেন। অনেকের চেয়েই শিক্ষাগত যোগ্যতা তার বেশি ছিল কিন্তু কোথাও চাকরি পেলেন না। কারণ তার অপরাধ তিনি ইহুদি।
নিরুপায় আইনস্টাইন খরচ চালানোর প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র পড়াতে আরম্ভ করলেন। এই সময় আইনস্টাইন তার স্কুলের সহপাঠিনী মিলেভা মারেককে বিয়ে করলেন। তখন তার বয়স মাত্র ২২ বছর। মিলেভা শুধু আইনস্টাইনের স্ত্রী ছিলেন না, প্রকৃত অর্থেই তার জীবনসঙ্গী ছিলেন।
আইনস্টাইন বুঝতে পারলেন শিক্ষকতার কাজ পাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। একটি অফিসে ক্লার্কের চাকরি নিলেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিজের খাতার পাতায় সমাধান করতেন অঙ্কের জটিল তত্ত্ব। স্বপ্ন দেখতেন প্রকৃতির দুর্জ্ঞেয় রহস্য ভেদ করার। তার এই গোপন সাধনার কথা শুধু মিলেভাকে বলেছিলেন, ‘আমি এই বিশ্বপ্রকৃতির স্থান ও সময় নিয়ে গবেষণা করছি।’
আইনস্টাইনের এই গবেষণায় ছিল না কোনো ল্যাবরেটরি, ছিল না কোনো যন্ত্রপাতি। তার একমাত্র অবলম্বন ছিল খাতা-কলম আর তার অসাধারণ চিন্তাশক্তি। অবশেষে শেষ হলো তার গবেষণা। তখন তার বয়স মাত্র ২৬ বছর। একদিন ত্রিশ পাতার একটি প্রবন্ধ নিয়ে হাজির হলেন বার্লিনের বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক পত্রিকা Annalen der physik-এর অফিসে।
এই পত্রিকায় ১৯০১ থেকে ১৯০৭ পর্যন্ত আইনস্টাইন পাঁচটি রচনা প্রকাশ করলেন। এসব রচনায় প্রচলিত বিষয়কে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে আইনস্টাইনের নাম বিজ্ঞানী মহলে ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কোনো সুরাহা হলো না। নিতান্ত বাধ্য হয়ে বাড়িতে ছাত্র পড়ানোর কাজ নিলেন।
একদিকে অফিসের কাজ, মিলেভার স্নেহভরা ভালোবাসা, অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা অবশেষে ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হলো তার চারটি রচনা-প্রথমটি আলোর গঠন ও শক্তি সম্পর্কে। দ্বিতীয়টি অ্যাটমের আকৃতি-প্রকৃতি। তৃতীয়টি ব্রাউনিয়াম মুভমেন্টের ক্রমবিকাশের তত্ত্ব। চতুর্থটি তার বিখ্যাত আপেক্ষিকতার তত্ত্ব। যা বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন দিগন্ত উদ্ভাসিত করল। এই আপেক্ষিকতা বলতে বোঝায় কোনো বস্তুর সঙ্গে সম্বন্ধ বা অন্য কিছুর তুলনা। আইনস্টাইন বললেন আমরা যখন কোনো সময় বা স্থান পরিমাপ করি তখন আমাদের অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা করতে হবে। তিনি বলেছেন আলোক বিশ্বজগৎ, কাল এবং মাত্রা আপেক্ষিক।
আমাদের মহাবিশ্বে একটি মাত্র গতি আছে যা আপেক্ষিক নয়, অন্য কোনো গতির সঙ্গেও এর তুলনা হয় না-এই গতি হচ্ছে আলোকের গতি। এই গতি কখনোই পরিবর্তন হয় না। এই সময় জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলো আইনস্টাইনকে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য। ১৯০৭ সালে তিনি জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হলেন। এরই সাথে পেটেন্ট অফিসের চাকরিও করেন।
বিজ্ঞান জগতে ক্রমশই আইনস্টাইনের নাম ছড়িয়ে পড়ছিল। বিজ্ঞানী কেলভিনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হলো। এখানে তাকে অনারারি ডক্টরেট উপাধি দেয়া হলো। এরপর তার ডাক এল জার্মানির সলসবার্গ কনফারেন্স থেকে। এখানে জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের সামনে তার প্রবন্ধ পড়লেন আইনস্টাইন। তিনি বললেন, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার অগ্রগতির পরবর্তী পর্যায়ে আমরা এমন কোনো এক তত্ত্ব পাব যা আলোর কণাতত্ত্ব এবং তরঙ্গ তত্ত্বকে সময়ের বাঁধনে বাঁধতে পারবে।
আইনস্টাইনের এই উক্তির জবাবে বিজ্ঞানী প্লাঙ্ক বললেন, আইনস্টাইন যা চিন্তা করছেন সেই পর্যায়ে চিন্তা করার সময় এখনো আসেনি। এর উত্তরে আইনস্টাইন তার বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের ঊ=সপ২ উৎপত্তিটি আলোচনা করে বোঝালেন তিনি যা প্রমাণ করতে চাইছেন তা কতখানি সত্য।
১৯০৮ সালে জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার পদ সৃষ্টি করা হলো। রাজনৈতিক মহলের চাপে এই পদে মনোনীত করা হলো আইনস্টাইনের সহপাঠী ফ্রেডরিখ এডলারকে। ফ্রেডরিক নতুন পদে যোগ দিয়েই জানতে পারলেন এই পদের জন্য আইনস্টাইনের পরিবর্তে তাকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে জানালেন এই পদের জন্য আইনস্টাইনের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আর কেউ নেই। তার তুলনায় আমার জ্ঞান নেহাতই নগণ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও উপলব্ধি করতে পারলেন ফ্রেডরিখের কথার গুরুত্ব। অবশেষে ১৯০৯ সালে আইনস্টাইন তার পেটেন্ট অফিসের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে পুরোপুরি শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করলেন। জুরিখে এসে বাসা ভাড়া করলেন।
আইনস্টাইন আর কেরানি নন, প্রফেসর। কিন্তু মাইনে আগে পেতেন ৪৫০০ ফ্রাঙ্ক, এখনো তাই। তবে লেকচার ফি বাবদ সামান্য কিছু বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার সুযোগে বহু মানুষের সাথে, গুণী বিজ্ঞানীদের সাথে পরিচয় হয়। এমন সময় ডাক এল জার্মানির প্রাগ থেকে। জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হলো। মাইনে আগের চেয়ে বেশি। তাছাড়া প্রাগে গবেষণার জন্য পাবেন বিশাল লাইব্রেরি। ১৯১১ সালে সপরিবারে প্রাগে এলেন আইনস্টাইন। কয়েক মাস আগে তার দ্বিতীয় পুত্রের জন্ম হয়েছে।
অবশেষে দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত জুরিখের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক এল আইনস্টাইনের। ১৯১২ সালে প্রাগ ত্যাগ করে এলেন জুরিখে। এখানে তখন ছুটি কাটাতে এসেছিলেন মাদাম কুরি, সঙ্গে দুই কন্যা। দুই বিজ্ঞানীর মধ্যে গড়ে উঠল মধুর বন্ধুত্ব। পাহাড়ি পথ ধরে যেতে যেতে মাদাম কুরি ব্যাখ্যা করেন তেজস্ক্রিয়তা আর আইনস্টাইন বলেন তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব। একদিন নিজের তত্ত্বের কথা বলতে বলতে এত তন্ময় হয়ে পড়েছিলেন পথের ধারে গর্তের মধ্যে গড়িয়ে পড়লেন আইনস্টাইন। তাই দেখে মেরি কুরির দুই মেয়ে হাসিতে ফেটে পড়ল। গর্ত থেকে উঠে তাদের সঙ্গে আইনস্টাইনও হাসিতে যোগ দিলেন।
সেই সময় জার্মানিতে কাইজারের পৃষ্ঠপোষকতায় বার্লিন শহরে গড়ে উঠেছে কাইজার তিলহেলম ইনস্টিটিউট। বিজ্ঞানের এতবড় গবেষণাগার পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এখানে যোগ দিয়েছেন প্লাঙ্ক, নার্নস্ট, হারের আরো সব বিখ্যাত বিজ্ঞানী। কিন্তু আইনস্টাইন না থাকলে যে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে সবকিছু। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলো।
বার্লিনে এলেন আইনস্টাইন। সবকিছু দেখে মুগ্ধ হলেন তিনি। শুধু গবেষণাগার নয়, বহু বিজ্ঞানীকেও কাছে পাওয়া যাবে। একসাথে কাজ করা যাবে। তাকে মাইনে দেয়া হলো বর্তমান মাইনের দ্বিগুণ।
১৯১৪ সালে বার্লিনে এলেন আইনস্টাইন। যখন আইনস্টাইন বার্লিন ছেড়েছিলেন তখন তিনি পনেরো বছরের কিশোর। দীর্ঘ কুড়ি বছর পর ফিরে এলেন নিজের শহরে। চেনাজানা পরিচিত মানুষদের সাথে দেখা হলো। সবচেয়ে ভালো লাগল দূরসম্পর্কিত বোন কাছে ফিরে এসেছে। এলসার সান্নিধ্য বরাবরই মুগ্ধ করত আইনস্টাইনকে। অল্পদিনেই অনেকের সাথেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠল।
ছেলেবেলা থেকেই যেখানে সেখানে অঙ্ক করার অভ্যাস ছিল আইনস্টাইনের। কখনো ঘরের মেঝেতে, কখনো টেবিলের ওপর। টেবিল ভর্তি হয়ে গেলে মাটিতে বসে চেয়ারের উপরেই অঙ্ক কষে চলেছেন।
গবেষণায় যতই মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন আইনস্টাইন, সংসারের প্রতি ততই উদাসীন হয়ে পড়ছিলেন। স্ত্রী মিলেভার সাথে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। ক্রমশই সন্দেহবাতিকগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলেন মিলেভা। দুই ছেলেকে নিয়ে সুইজারল্যান্ডে চলে গেলেন। কয়েক মাস কেটে গেল আর ফিরলেন না মিলেভা।
এদিকে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলো। বিজ্ঞানীদের অধিকাংশই জড়িয়ে পড়লেন যুদ্ধে। আইনস্টাইন এই যুদ্ধের বীভৎসতা দেখে ব্যথিত হলেন। এরই সাথে সংসারের একাকিত্ব, স্ত্রী-পুত্রকে হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন আইনস্টাইন।
এই সময় অসুস্থ আইনস্টাইনের পাশে এসে দাঁড়ালেন এলসা। এলসার অক্লান্ত সেবা-যত্নে ক্রমশই সুস্থ হয়ে উঠলেন আইনস্টাইন। তিনি স্থির করলেন মিলেভার সাথে আর সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়। অবশেষে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেল। আইনস্টাইন এলসাকে বিয়ে করলেন। এদিকে যুদ্ধ শেষ হলো। কাইজারের পতন ঘটল। প্রতিষ্ঠা হলো নতুন জার্মান রিপাবলিকের। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব তখনো প্রমাণিত হয়নি। এগিয়ে এলেন ইংরেজ বিজ্ঞানীরা। সূর্যগ্রহণের একাধিক ছবি তোলা হলো। সেই ছবি পরীক্ষা করে দেখা গেল আলো বাঁকে।
বিজ্ঞানীরা উত্তেজনায় ফেটে পড়লেন। মানুষ তার জ্ঞানের সীমানাকে অতিক্রম করতে চলেছে। অবশেষে ৬ নভেম্বর ইংল্যান্ডের রয়্যাল সোসাইটিতে ঘোষণা করা হলো সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার, আলো বেঁকে যায়। এই বাঁকের নিয়ম নিউটনের তত্ত্বে নেই। আলোর বাঁকের মাপ আছে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদের সূত্রে।
পরিহাসপ্রিয় আইনস্টাইন তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কার নিয়ে কৌতুক করে বললেন, আমার আপেক্ষিক তত্ত্ব সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। এবার জার্মানি বলবে আমি জার্মান আর ফরাসিরা বলবে আমি বিশ্বনাগরিক। কিন্তু যদি আমার তত্ত্ব মিথ্যা হতো তাহলে ফরাসিরা বলত আমি জার্মান আর জার্মানরা বলত আমি ইহুদি।
একদিন এক তরুণ সাংবাদিক বললেন, আপনি সংক্ষেপে বলুন আপেক্ষিক তত্ত্বটা কী?
আইনস্টাইন কৌতুক করে বললেন, যখন একজন লোক কোনো সুন্দরীর সঙ্গে এক ঘণ্টা গল্প করে তখন তার মনে হয় যে যেন এক মিনিট বসে আছে। কিন্তু যখন তাকে কোনো গরম উনানের ধারে এক মিনিট দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় তার মনে হয় সে যেন এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে। এই হচ্ছে আপেক্ষিক তত্ত্ব।
আপেক্ষিক তত্ত্বে জটিলতার দুর্বোধ্যতার কারণে মুখরোচক কিছু কাহিনী ছড়িয়ে পড়ল। একদিন এক সুন্দরী তরুণী তার প্রেমিকের সাথে চার্চের ফাদারের পরিচয় করিয়ে দিল। পরদিন যখন মেয়েটি ফাদারের কাছে গিয়েছে ফাদার তাকে কাছে ডেকে বললেন, তোমার প্রেমিককে আমার সব দিক থেকেই ভালো লেগেছে শুধু একটি বিষয় ছাড়া।
মেয়েটি কৌতুহলে জিজ্ঞাসা করল, কোন বিষয়? ফাদার বললেন তার কোনো রসবোধ নেই। আমি তাকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের কথা জিজ্ঞাসা করেছি আর সে আমাকে তাই বোঝাতে আরম্ভ করল। হাসিতে ফেটে পড়ল মেয়েটি।
আমেরিকার এক বিখ্যাত সুরকার জর্জ তার এক বন্ধুকে বললেন, একজন মানুষ কুড়ি বছর ধরে একটা বিষয় নিয়ে চিন্তা করলেন, আর ভাবলে অবাক হতে হয় সেই চিন্তাটুকুকে প্রকাশ করলেন মাত্র তিন পাতায়। বন্ধুটি জবাব দিল নিশ্চয়ই খুব ছোট অক্ষরে ছাপা হয়েছিল।
আইনস্টাইন আমেরিকায় গিয়েছেন, সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরল। একজন জিজ্ঞেস করল, আপনি কি এক কথায় আপেক্ষিক তত্ত্বের ব্যাখ্যা করতে পারেন? আইনস্টাইন জবাব দিলেন, না।
আজকাল মেয়েরা কেন আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে এত আলোচনা করছে? আইনস্টাইন হাসতে হাসতে বললেন, মেয়েরা সব সময়ই নতুন কিছু পছন্দ করে-এই বছরের নতুন জিনিস হলো আপেক্ষিক তত্ত্ব।
অবশেষে এল সাধক বিজ্ঞানীর জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার। কিছুদিন ধরেই নোবেল কমিটি আইনস্টাইনকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার কথা চিন্তা করছিল। কিন্তু সংশয় দেখা গেল স্বয়ং নোবেলের ঘোষণার মধ্যে। তিনি বলে গিয়েছিলেন পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পাবেন আবিষ্কারক আর সেই আবিষ্কার যেন মানুষের কল্যাণে লাগে। আইনস্টাইনের বেলায় বিতর্ক দেখা দিল তার আপেক্ষিক তত্ত্ব যুগান্তকারী হলেও প্রত্যক্ষভাবে তা মানুষের কোনো কাজে লাগবে না।
তখন তার ফটো ইলেকট্রিক অ্যাফেক্ট বা আলোক তড়িৎ ফলকে সরাসরি আবিষ্কার হিসেবে বলা সম্ভব এবং এর প্রত্যক্ষ ব্যবহারও হচ্ছে তাই ঘোষণা করা হলো Service to the theory of Physics, especially for the Law of the Photo Electric Effect. আইনস্টাইন তার প্রথমা স্ত্রী মিলেভার সাথে বিবাহবিচ্ছেদের শর্ত অনুসারে নোবেল পুরস্কারের পুরো টাকাটা তাকে পাঠিয়ে দেন।
আমেরিকায় বক্তৃতা দেয়ার জন্য বারবার ডাক আসছিল। অবশেষে ১৯৩০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন, সেখানে অভূতপূর্ব সম্মান পেলেন। শুধু আমেরিকা নয়, যখন যে দেশেই যান সেখানেই পান সম্মান আর ভালোবাসা।
এদিকে স্বদেশ জার্মানি ক্রমশই আইনস্টাইনের কাছে পরবাস হয়ে উঠেছিল। একদিকে তার সাফল্য স্বীকৃতিকে কিছু বিজ্ঞানী ঈর্ষার দৃষ্টিতে দেখতে থাকে, অন্যদিকে হিটলারের আবির্ভাবে দেশজুড়ে এক জাতীয়তাবাদের নেশায় মত্ত হয়ে ওঠে একদল মানুষ। ইহুদিরা ক্রমশই ঘৃণিত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে। আইনস্টাইন বুঝতে পারলেন জার্মানিতে থাকা তার পক্ষে মোটেই নিরাপদ নয়। কিন্তু কোথায় যাবেন? আহ্বান আসে নানা দেশ থেকে। অবশেষে স্থির করলেন আমেরিকার প্রিন্সটানে যাবেন।
জার্মানি থেকে ইহুদি বিতাড়ন শুরু হয়ে যায়। আইনস্টাইন বুঝতে পারলেন এবার তারও যাওয়ার পালা। প্রথমে গেলেন ইংল্যান্ডে। সেখান থেকে ১৯৩৪ সালের ৭ জুলাই রওনা হলেন আমেরিকায়। তখন তার বয়স পঞ্চান্ন বছর।
প্রিন্সটনের কর্তৃপক্ষ আইনস্টাইনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। গুপ্তঘাতকের দল যে সাগর পেরিয়ে আমেরিকায় এসে পৌঁছবে না তাই বা কে বলতে পারে। তাই তাকে গোপন জায়গায় রাখা হলো। সেই বাড়ির ঠিকানা কাউকে জানানো হলো না। এভাবে থাকতে তার আর ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে ল্যাবরেটরি থেকে এসে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। একদিন সন্ধ্যাবেলায় প্রিন্সটনের ডিরেকটরের বাড়িতে ফোন এল দয়া করে যদি আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বরটা জানান। আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বর কাউকে জানানো হবে না বলে ফোনটা নামিয়ে রাখলেন ডিরেকটার।
খানিক পরে আবার ফোন বেজে উঠল। আমি আইনস্টাইন বলছি, বাড়ির নম্বর আর রাস্তা দুটোই ভুলে গিয়েছি। যদি দয়া করে বলে দেন। এ এক বিচিত্র ঘটনা, যে মানুষটি নিজের ঘরের ঠিকানা মনে রাখতে পারেন না, তিনি বিশ্বপ্রকৃতির রহস্যের ঠিকানা খুঁজে বের করেন।
প্রকৃতপক্ষে জীবনের উত্তরপর্বে এসে আইনস্টাইন হয়ে উঠেছিলেন গৃহ সন্ন্যাসী। বড়দের চেয়ে শিশুরাই তার প্রিয়। তাদের মধ্যে গেলে সবকিছু ভুলে যান। শিশুদের কাছে কল্পনার ক্রিসমাস বুড়ো। পরনে কোট নেই, টাই নেই, জ্যাকেট নেই। ঢলঢলে প্যান্ট আর গলা আঁটা সোয়েটার, মাথায় বড় বড় চুল, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, ঝ্যাটা গোঁফ। দাড়ি কামাতে অর্ধেক দিন ভুলে যান। যখন মনে পড়ে গায়ে মাখা সাবানটা গালে ঘষে দাড়ি কেটে নেন। কেউ জিজ্ঞেস করলে কী ব্যাপার গায়ে মাখা সাবান দিয়ে দাড়ি কাটা, আইনস্টাইন জবাব দিতেন, দুরকম সাবান ব্যবহার করে কী লাভ?
শুধু নির্যাতিত ইহুদিদের সপক্ষে নয়, তিনি ক্রমশই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন সমগ্র মানবজাতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে। যুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করছে, দলমত নির্বিশেষে তিনি তাদের সমর্থন করলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন একদিন মানুষ এই ধ্বংসের উন্মাদনা ভুলে এক হবেই। আর একত্বতার মধ্যেই মানুষ খুঁজে পাবে তার ধর্মকে।
আইনস্টাইনের কাছে এই ধর্মীয় চেতনা প্রচলিত কোনো সীমার মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন ধর্ম মানবতারই এক মূর্ত প্রকাশ। বিজ্ঞান আর ধর্মে কোনো প্রভেদ নেই, প্রভেদ শুধু দৃষ্টিভঙ্গিতে। বিজ্ঞান শুধু ‘কি’ তার উত্তর দিতে পারে ‘কেন’ বা ‘কী হওয়া উচিত’ সে উত্তর দেয়ার ক্ষমতা নেই। অপরদিকে ধর্ম শুধু মানুষের কাজ আর চিন্তার মূল্যায়ন করতে পারে মাত্র। সে হয়তো মানব জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ বলে দেয় বিজ্ঞান।…তাই ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ।
মানবতাবাদী আইনস্টাইন একদিকে শান্তির জন্য সংগ্রাম করছিলেন, অন্যদিকে প্রকৃতির রহস্য উদ্ঘাটনে একের পর এক তত্ত্ব আবিষ্কার করছিলেন। এই সময় তিনি প্রধানত অভিকর্ষ ও বিদ্যুৎ চৌম্বকক্ষেত্রের মিলন সাধনের প্রচেষ্টায় অতিবাহিত করেন। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার বিকাশের পথে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল কিন্তু এই তত্ত্বের সম্ভাব্যতাভিত্তিক চরিত্রে তার সম্পূর্ণ আস্থা ছিল না।
১৯৩৬ সালে হঠাৎ স্ত্রী এলসা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সুদীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এলসা ছিলেন আইনস্টাইনের যোগ্য সহধর্মিণী, তার সুখ-দুঃখের সঙ্গী।আইনস্টাইন সব বুঝতে পারেন কিন্তু অসহায়ের মতো তিনি শুধু চেয়ে থাকেন। অবশেষে ১৯৩৬ সালে চিরদিনের মতো প্রিয়তম আইনস্টাইনকে ছেড়ে চলে গেলেন এলসা। এই মানসিক আঘাতে সাময়িকভাবে ভেঙে পড়লেন আইনস্টাইন।
এই সময় পারমাণবিক শক্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। এই শক্তির ভয়াবহতা সকলেই উপলব্ধি করতে পারছিলেন। পরীক্ষায় জানা গেল পারমাণবিক শক্তি সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ধাতু হলো ইউরেনিয়াম। আর এই ইউরেনিয়াম তখন একমাত্র পাওয়া যায় কঙ্গো উপত্যকায়। কঙ্গো, বেলজিয়ামের অধিকারভুক্ত। বিজ্ঞানী মহল আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ল যদি জার্মানদের হাতে এই ইউরেনিয়াম পড়ে তাহলে তারা পরমাণু বোমা বানাতে মুহূর্ত মাত্র বিলম্ব করবে না। গোপনে সংবাদ পাওয়া যায় জার্মান বিজ্ঞানীরা নাকি জোর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনস্টাইন উপলব্ধি করলেন তার সমীকরণ প্রমাণিত হতে চলছে। সামান্য ভরের রূপান্তরের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে অপরিমেয় শক্তি। আইনস্টাইন লিখেছেন, ‘আমার জীবনকালে এই শক্তি পাওয়া যাবে ভাবতে পারিনি’।
এদিকে জার্মান বাহিনী দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষের বিজ্ঞানীরা উপলব্ধি করলেন যুদ্ধ জয় করতে গেলে অ্যাটম বোমা তৈরি করা দরকার এবং তা জার্মানির আগেই তৈরি করতে হবে। সকলে সমবেতভাবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে আবেদন জানাল। যদিও এই আবেদনপত্রে সই করেছিলেন আইনস্টাইন, আমেরিকায় পরমাণু বোমা তৈরির ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই তিনি জড়িত ছিলেন না।
শেষ দিকে তিনি চেয়েছিলেন এই গবেষণা বন্ধ হোক। তিনি বিজ্ঞানী মাক্স বোর্নকে বলেন, পরমাণু বোমা তৈরির জন্য আবেদনপত্রে আমার সই করাটাই সবচেয়ে বড় ভুল। জাপানে অ্যাটম বোমা ফেলার পর তার বিধ্বংসী রূপ দেখে বিচলিত আইনস্টাইন লিখেছেন, ‘পারমাণবিক শক্তি মানব জীবনে খুব তাড়াতাড়ি আশীর্বাদ হয়ে দেখা যাবে-সে রকম মনে হয় না। এই শক্তি মানবজাতির প্রকৃতই ভয়ের কারণ-হয়তো পরোক্ষভাবে তা ভালোই করবে। ভয় পেয়ে মানবজাতি তাদের পারস্পরিক সম্বন্ধের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-শৃঙ্খলা চালু করবে। ভয় ছাড়া মানুষ বোধহয় কখনোই শান্তির পথে অগ্রসর হতে পারবে না।’
১৯৫০ সালে প্রকাশিত হলো তার নতুন তত্ত্ব A generalised theory of Gravitation। মহাকর্ষের সর্বজনীন তত্ত্ব। এত জটিল সেই তত্ত্ব, খুব কম সংখ্যক মানুষই তা উপলব্ধি করতে পারলেন।
যখন বিজ্ঞানীরা তাকে তার এই নতুন তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে বললেন তিনি সকৌতুক বললেন, কুড়ি বছর পর এর আলোচনা করা যাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে উঠেছে নতুন ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল। আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হলো নতুন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য।
আইনস্টাইন জানালেন প্রকৃতির তত্ত্ব কিছু বুঝলেও মানুষ রাজনীতির কিছুই বোঝেন না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির পদ শুধু শোভাবর্ধনের জন্য। শোভা হলেও তার বিবেক যা মানতে পারবে না তাকে তিনি কখনোই সমর্থন করতে পারবেন না।
জীবন শেষ হয়ে আসছিল, এই সময়ে ইংরেজ মনীষী বার্ট্রান্ড রাসেলের অনুরোধে বিশ্ব শান্তির জন্য খসড়া লিখতে আরম্ভ করলেন। কিন্তু শেষ করতে পারলেন না। ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল তার জীবন শেষ হলো। তার ইচ্ছা অনুসারে মৃতদেহটা পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হলো। শোনা যায় পরীক্ষার জন্য তার ব্রেইন কোনো গবেষণাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে সম্বন্ধে কেউই আর কোনো কথা প্রকাশ করেনি।
বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর জীবনী
১৮ এপ্রিল আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যুদিন। বাঙালিরা যেমন পঁচিশে বৈশাখ বাইশে শ্রাবণ পালন করেন ঠিক সেরকম বা কাছাকাছি আড়ম্বরে আইনস্টাইনের জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালিত হয় না কোথাও। শুধু আইনস্টাইন কেন- কোন বিজ্ঞানীই তেমন ভাবে স্মর্তব্য নন আমাদের সংস্কৃতিতে। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সুফল (কিংবা কুফল) ভোগ করতে জানি সবাই কিন্তু বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় সম্মান কিংবা ভালোবাসা দিতে আমরা জানি না। আমরা কেউ তেমনভাবে ভেবেও দেখি না যে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে আমরা কী কী সুবিধা পাচ্ছি, লেজার রশ্মি আমাদের কোন্‌ কাজে লাগছে কিংবা E=mc2 প্রয়োগ করে কী বিপুল শক্তির অধিকারী আমরা হয়ে উঠছি। জাতি হিসেবে আমরা আবেগ-প্রবণ। ধর্ম-কবিতা-গান-গল্প-নাটক-সিনেমা সর্বোপরি রাজনীতির যত চর্চা আমরা করি বা পিন্ডি চটকাই তার সহস্রাংশ সময়ও বিজ্ঞানচর্চার জন্য রাখি না। বিজ্ঞানচর্চা নিজেরা করিনা তো বটেই – অন্য কেউ করলেও আমরা সহ্য করি না। বিশেষ করে আধুনিক বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরাতন ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে প্রশ্ন করলেই তেড়ে মারতে আসার লোকের অভাব নেই আমাদের বাংলাদেশে। রাষ্ট্রযন্ত্র আধুনিকতার মুখোশ পরে থাকে – কিন্তু মুখশ্রী বদলাতে রাজি নয় কোন ভাবেই। তাই ব্লগাররা যখন বৈজ্ঞানিক যুক্তির ধারালো চাকুতে ব্যবচ্ছেদ করে শত বছরের পুরনো সংস্কার – মোল্লারা ধর্মের নামে তলোয়ার চালায় তাদের উপর, রাষ্ট্র যোগ দেয় সাথে। এর মধ্যেও শত প্রতিকূলতা দুহাতে ঠেলে বিজ্ঞানচর্চা করে যাচ্ছেন অনেকেই। আইনস্টাইন সারাজীবন উৎসাহ দিয়েছেন এসব লড়াকু বিজ্ঞান-সৈনিকদের। আমার বিশ্বাস আমাদের দেশেও বিজ্ঞান-সৈনিকের সংখ্যা বাড়বে দিনে দিনে, একদিন আমাদের দেশেও গড়ে উঠবে আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানী। আইনস্টাইনের জীবন থেকে নেয়া আজকের লেখাটি বাংলার বিজ্ঞান-সেনাদের জন্য।
আলবার্ট আইনস্টাইন-এর জীবনি নিয়ে কিছু কথা !
০১ জীবনবৃত্তান্ত
আইনস্টাইনের জীবনবৃত্তান্ত বহুল প্রচারিত। আইনস্টাইনই একমাত্র বিজ্ঞানী যাঁর এক বা একাধিক জীবনী পৃথিবীর প্রায় সবগুলো ভাষাতেই প্রকাশিত হয়েছে। (আইনস্টাইনের একটি বাংলা জীবনী মুক্তমনায় আছে এখানে)। তবে তাঁর প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক জীবনবৃত্তান্ত রচিত হয়েছিল ১৮৯৬ সালে তাঁর সতের বছর বয়সে তাঁর নিজের হাতেই। আইনস্টাইন তখন সুইজারল্যান্ডের আরাউ অঞ্চলের আগাউ স্কুল থেকে ফেডারেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য প্

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, লিডিং ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে গোটা বিশ্বকে অবাক করে মায়ের ভাষার জন্য রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল এদেশের সূর্য সন্তানরা। তাদের এই নিঃস্বার্থ আতœত্যাগেই আমরা পেয়েছি অমৃতসম মায়ের ভাষা, প্রণের ভাষা, গানের ভাষা, আবেগের ভাষা, বাংলা ভাষা। আমরা ভাষা আন্দোলনের সকল বীর সেনাদের স্মরণ করছি সশ্রদ্ধ চিত্তে। একই সাথে¦ একমাত্র মায়ের ভাষার জন্য যারা অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে প্রাণ, যাদের জন্য অবাক গোটা বিশ্ববাসী সেই মহান শহীদদের আতœার মাগফেরাত কমনা করছি। আজ সারা বিশ্বে বাংলা ভাষাবাসীরা উদযাপন করবে এই দিবসটিকে।
একুশ আমাদের চেতনায়,একুশ আমার প্রেরণায়। একুশ আমার অহংকার,একুশ আমাদের অহংকার। কবির ভাষায়-“একুশ আমার ব্যাথায় কাতর চোখের বারিধারা,একুশ আমার শূণ্য হিয়ায় আকাশ ভরা তারা। একুশ আমার রক্ত রঙ্গিন কৃষ্ণ চূড়ার ডাল,একুশ আমার ঝাজরাঁ হওয়া চোট্ট ঘরের চাল। ভাষা আন্দোলনের গোড়ার কথা : ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে যে ঘটনা ঘটেছিলো তা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়কেই রক্তাক্ত করে। দ্বিজাতী তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট তারিখে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। পূর্ব বাংলার মুসলমামনরা ছিল সংখ্যা গরিষ্ট। তাই পুর্ব বাংলাকে পাকিস্থানের অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি চরম অবজ্ঞা পোষণ করে যে দিন হাতে নতুন শিকল পড়ানো হয় তার পরিনাম হয় মারাত্বক। পাকিস্তানের নব্য উপনিবেশ বাদী, ক্ষমতালিপ্সু, উদ্ধত শাসকরা শুরু থেকেই মানুষের উপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালাতে থাকে। প্রথমেই তারা ফন্দি আঁটে কিভাবে এদেশের মানুষের মুখের ভাষাকে কেড়ে নেওয়া যায়। এ অংশের মানুষকে বসে রাখার জন্য তারা বাংলাভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাঙালিদের ঘাড়ে পাকিস্তানি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার নীলনকশা রচনা করে। পাকিস্তানের রাষ্ট প্রধান মোঃ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে এক সমাবেশের ঘোষনা দেন, “ঁৎফঁ ধহফ ঁৎফঁ ংযধষষ নব ঃযব ংঃধঃব ষধহমঁধমব ড়ভ চধশরংঃধহ ” কিন্তু এদেশের ছাত্র যুবকরা সে সমাবেশেই “ ঘড়, ঘড়, রঃ পধহদঃ” নব ধ্বনি তুলে তার উদ্ধতপূর্ণ ঘোষনার সমুচিত জবাব দেয়। প্রতিবাদের ভাষা এবং এর ব্যাপকতা ক্রমেই বাড়তে থাকে।
পাকিস্তানি সরকার সকল প্রতিবাকে পাশবিক শক্তি দ্বারা দমনের চেষ্টা চালায়। তাদের একপেশে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবর্তীন হয় দেশের মানুষ। এদেশের দামাল ছেলেরা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বজ্রকঠিন শপথ গ্রহণ করে। র্পূব বাংলার র্সবত্র ছড়িয়ে পড়ে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন। আন্দোলনের পুরোভাগে এসে দাঁড়ায় এদেশের ছাত্র ও যুবসমাজ। আন্দোলনে সংগ্রামে বাংলা ভাষাঃ একুশে ফেব্রুয়ারী তারিখে প্রতিবাদ সভা এবং মিছিল হবে তা আগেই ঘোষনা দেওয়া হয়েছিলো। পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার জন্যে সরকার ১১ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা আইন জারী করে। ২০শে ফেব্রুয়ারী রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্ররা গোপন বৈঠক করে এবং সিদ্ধান্ত হয় যেমন করে হউক তারা ১৪৪ লঙ্ঘন করবেই।
সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একুশে ফেব্রুয়ারীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে আহুত হয় ছাত্রদের প্রতিবাদ সভা। সভা শেষে তারা মিছিল বের করে। সেদিন ছাত্রসমাজের প্রতিবাদী কন্ঠে ধ্বনিত হয় স্বাধিকারের দাবি। প্রাদেশিক অধিবেশন বসেছিল সেসময়। ভাষার দাবিতে সোচ্চার মিছিলটি এগিয়ে যায় প্রাদেশিক ভবনের দিকে। মিছিলটি ছত্রভঙ্ঘ করার জন্যে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের বেপরোয়া গুলি বর্ষনের ফলে রাজ পথে লুটিয়ে পড়ে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, সফিউল প্রমূখ দামাল ছেলেরা। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তারা লিখে যায় এক অনন্য ইতিহাস। তাদেঁর নিঃসৃত রক্তে সে দিন লেখা হয়ে যায় পুর্ববাংলার অমোঘ ভাগ্যলিপি। তাদের এ মহান আতœত্যাগের ফলেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার সম্মান লাভ করে। বাঙালির স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকে সেই দিন, সেই রাজ পথ, সেই ফুলার রোড।